Monday , December 5 2016
Home / জাতীয় / খাদিজার হাসপাতালের বিল সাড়ে ১৭ লাখ টাকা? কি দিবে এই টাকা?

খাদিজার হাসপাতালের বিল সাড়ে ১৭ লাখ টাকা? কি দিবে এই টাকা?

প্রায় দুই মাস চিকিৎসা শেষে স্কয়ার হাসপাতাল ছাড়লেন খাদিজা আক্তার নার্গিস। ৫৬ দিন চিকিৎসা হয়েছে অভিজাত হাসপাতালটিতে। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা ভীষণ কঠিন। তবে শুরুতেই সরকার চিকিৎসা ব্যয় বহনের ঘোষণা দেয়ায় দুশ্চিন্তা ছিল না খাদিজার পরিবারে।
খাদিজার পরিবারের চিন্তা না থাকলেও প্রায় দুই মাসে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় কতো হয়েছে-এ নিয়ে কথা হচ্ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখে কুলুপ। কোনো সংখ্যাই বলছেন না তারা।

জানতে চাইলে হাসপাতালের কাস্টমার সার্ভিসের কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বলেন, ‘খাদিজার বিল কত হয়েছে এটা আমাদের জানা নেই। আপনি হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন। আর এই তথ্য কেউ বলতে পারবে না।’ পরে রুমানার পরামর্শ মতো হিসাব শাখায় গেলে সেখানে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা গোপন জিনিস। আমরা এই তথ্য কাউকে সরবরাহ করবো না। আর যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করে তাহলে এই তথ্য সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করা হবে। এটা সম্পূর্ণ হাসপাতালের ব্যাপার।
খাদিজার চিকিসার তত্ত্বাবধান করেছেন চিকিৎসক মির্জা নাজিমউদ্দিন। টাকার অংকটা বলতে চাইলেন না তিনিও। জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী দেখছেন, তিনিই বলতে পারবেন বিষয়টি।
অনেক মানুষকে জিজ্ঞাসার মধ্যে একটি অংক অবশ্য পাওয়া গেলো খাদিজার বাবা মাশুক মিয়ার কাছে। মেয়েকে হাসপাতাল থেকে নিতে আসার সময় তার সঙ্গে কথা হয় ঢাকাটাইমসের। তিনি বলেন, ‘ শুনছি সাড়ে ১৭ লাখ টাখা বিল অইছে। এই টাখা দিবে সরখান। আমারে এক টাখাও দিতে হয়নাই।’
সরকার কারও বিল দিলে চিকিৎসার খরচের হিসাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পাঠাতে হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। কিন্তু অধিদপ্তরে গিয়েও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের পরিচালক এ কে এম সাইদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘খাদিজার বিল কত হয়েছে তা আমার জানা নেই। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো বলেছেন, খাদিজার বিল বহন করবে সরকার। তাই আপনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষিৎ বাবুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। যেহেতু ওনিতো প্রেসটা দেখেন।’
তবে সেই পরীক্ষিৎ বাবুও (পরীক্ষিৎ চৌধুরী) ফেরালেন ‘জানি না’ বলে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘খাদিজা আক্তারের বিল সম্ভবত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিশোধ করেছে। তবে কীভাবে কে বিল পরিশোধ করেছে তা আমার জানা নেই।
গত ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে চাপাতির কোটে আহত হওয়ার পরদিন খাদিজাকে আনা হয় স্কয়ার হাসপাতালে। সেদিনই মাথায় অপারেশন হয় তার। এরপর অপারেশন হয় আরও দুই বার। ১১ দিন তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়।
এই হাসপাতালে আনার পর খাদিজার বাঁচার সম্ভাবনা পাঁচ শতাংশের বেশি দেখেননি চিকিৎসক। কিন্তু পরে সেরে উঠেন তিনি।
স্কয়ার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও চিকিৎসা এখনও শেষ হয়নি খাদিজার। তাকে দেশ দীর্ঘ সময় ফিজিওথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ কারণে সাভারের সিআরপিতে ভর্তি করা হয়েছে এই তরুণীকে।
সিআরপিতে খাদিজার চিকিৎসার খরচ কে দেবে? এই প্রশ্নের অবশ্য জবাব নেই তার বাবার কাছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এইটা তো জানি না।’

About admin bd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *