Wednesday , January 18 2017
Home / ভিডিও / কুমির খামার” – বাংলাদেশের একমাত্র কুমির খামার: বছরে আয় ২কোটি টাকা আয়

কুমির খামার” – বাংলাদেশের একমাত্র কুমির খামার: বছরে আয় ২কোটি টাকা আয়

ময়মনসিংহের ভালুকায় কুমির চাষের বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ বাংলাদেশে একমাত্র কুমিরের খামার।

ভালুকার হাতিবের গ্রাম এখন কুমির বিপ্লবের গ্রাম। ভালুকা উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে শালবনের ভিতর উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের গ্রাম। এখানেই গড়ে তোলা হয়েছে কুমিরের বিরাট খামার। খামারের জন্য ২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে আনা হয় ৭৫টি কুমির।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৭৫টি কুমিরের মধ্যে পুরুষ কুমির ছিল ১৩টি। আনার পরের দিনই বিশেষভাবে তৈরি পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয় এগুলো। ২০০৬ সালের আগস্টে দুটি কুমির প্রথম ডিম দেয়। বর্তমানে এ খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১ হাজার ৪০০ কুমির রয়েছে। শুরুতে খামারের আয়তন ১৪ একর হলেও এখন তা গিয়ে ঠেকেছে ২১ একরে। ২০১৩ সালে আমদানি করা হয় আরও ২১টি বড় কুমির। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২১টি পুরুষ কুমির আর ৬৪টি মাদি কুমির নিয়ে বর্তমানে এ খামারে বড় কুমিরের সংখ্যা ৮৫টি। তাদের জন্য রয়েছে ৪০টি পুকুর। রপ্তানিযোগ্য কুমিরের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করা হয়েছে ৬০০টি আলাদা পুকুর।

তথ্যানুযায়ী, কুমিরের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৪৩০টি কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভবিষ্যতে রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে মাংস, দাঁত ও হাড়। জাপান, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব চড়া দামে বিক্রি হয়। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যমানের কুমিরের মাংসের চাহিদা রয়েছে।

ম্যানেজার আবু সায়েম মোহাম্মদ আরিফ জানান, ২০১০ সালে জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য এ খামার থেকে ৬৭টি কুমির রপ্তানি করা হয়। এর মাধ্যমে প্রথম রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ। পরে ২০১৩ সালে ৫টি কুমির বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য দেওয়া হয়।

খামারের নির্বাহী পরিচালক রাজিব সোম জানান, তার খামার থেকে ২২ ডিসেম্বর জাপানের হরিউঁচি ট্রেডিং কোম্পানির একটি ট্যানারিতে ৪৩০টি কুমিরের চামড়া বাণিজ্যিকভাবে রফতানি করা হয়েছে; যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। কুমিরের মাংস, দাঁত ও হাড় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সেগুলো কয়েকটি দেশে রফতানির চেষ্টা চলছে।

About Monira Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *