Wednesday , January 18 2017
Home / খেলাধুলা / নিউজিল্যান্ড যাত্রা নিয়ে মুখ খুললেন মাশরাফি !

নিউজিল্যান্ড যাত্রা নিয়ে মুখ খুললেন মাশরাফি !

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলাটা দেশের মাটিতে হলে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যেত, ফেভারিট বাংলাদেশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে মাঠে গড়ানো চার ওয়ানডের সবকটিতেই হেরেছিল ব্ল্যাকক্যাপরা, বছর তিনেক পর আবারও বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজটা হেরে যায় ৩-০তে।

তাই বাংলাদেশই মনের জোরে এগিয়ে থাকত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এবার যে নিউজিল্যান্ড যাত্রা! সবুজ ঘাসের পিচকে যেখানে আউটফিল্ড থেকে আলাদা করা মুশকিল, তার ওপর ঠাণ্ডা বাতাস আর বৃষ্টির পশলা মিলিয়ে ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমি। বিমানে চড়ার আগে দেশের মাটিতে করে যাওয়া সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কাছে তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কন্ডিশন-সংক্রান্ত প্রশ্নই বেশি।

মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে একদল ক্রিকেটার আগেই চলে গেছেন, আজই মাশরাফিসহ বাকিরা ধরবেন বিমান। প্রাথমিক গন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ব্ল্যাকটাউন। সেখানে ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প, কথা আছে সিডনি সিক্সার্স ও সিডনি থান্ডার্সের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও। বক্সিং ডে, অর্থাৎ বড়দিনের পরদিন ক্রাইস্টচার্চে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর, তার আগে দলের ‘ফাইন টিউন’টা করে নিতে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনিং ক্যাম্পটাকেই পাখির চোখ করছেন মাশরাফি, ‘উদ্যোগটা খুব ভালো। ওখানে কাজ করতে সুবিধা হবে, গোটা দল একসঙ্গে পরিবারের মতো থাকব। একসঙ্গে অনুশীলন হবে, সবাইকে পাওয়া যাবে। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগেও আমরা অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্প করেছিলাম, সেটা কাজে দিয়েছিল। ’ মাশরাফিও মানছেন, নিউজিল্যান্ডে ভালো করতে হলে আগে মানিয়ে নিতে হবে কন্ডিশনের সঙ্গেই, ‘অনেক প্রতিষ্ঠিত দলের জন্যই নিউজিল্যান্ড সফর অনেক চ্যালেঞ্জিং, আমাদের জন্য আরো বেশি। কঠিন চ্যালেঞ্জ আসছে সামনে; তবে আমরা যেভাবে খেলছি সেই ছন্দটা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে মনে হয় কন্ডিশন ভিন্ন হলেও ভালো ফল হবে। ’ তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, দুটি টেস্ট ম্যাচ নিয়ে গোটা সিরিজ, ঠিক কতটা সাফল্য পেলে ফলটা ভালো বলা যাবে সেটা অবশ্য খোলাসা করেননি মাশরাফি, ‘নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে আমরা নতুন, চেষ্টা করব মানিয়ে নিতে। যেখানেই খেলি না কেন, মানুষের প্রত্যাশা থাকে। অন্তত ৫০ ভাগ ম্যাচ জিততে চাইব, এটা কঠিন কাজ তবু আমরা চেষ্টা করব। ’

আশার কথার পিঠে অবশ্য হতাশাও আছে। চোটের কারণে বিপিএলে ভালো করতে থাকা শফিউল ইসলাম ছিটকে গেছেন শেষ মুহূর্তে। সাকিব আল হাসানও সামর্থ্যের সবটুকু দিতে পারেননি বিপিএলে, সৌম্য সরকার বছর দেড়েক ধরে ফর্মের তলানিতে, মুস্তাফিজেরও প্রথম দিকের কিছু ম্যাচে না খেলার শঙ্কাই বেশি। এসব মিলিয়ে বেশ হতাশই শোনাল মাশরাফিকে, ‘আমরা এখন প্রায়ই শুনি যে আমাদের ব্যাকআপ ক্রিকেটার অনেক। কিন্তু আমি তো বলব আমাদের ব্যাকআপ খেলোয়াড় নেই। সাকিব, তামিমের বিকল্প কে? শফিউল ভালো ফর্মে ছিল, এই সময়ে চোট পেলে প্রভাবটা খুব খারাপ হয়। মুস্তাফিজকে ইংল্যান্ড সিরিজে পেলে হয়তো সিরিজই জিততে পারতাম। এখন সে ফিট হওয়ার পথে, এটা সুখবর। আর সাকিব সব সময় সঠিক সময়ে নিজেকে প্রমাণ করেছে। জাতীয় দলে সে সবসময় সেরা। সৌম্য গত দেড় বছর রান করতে পারেনি, তবে একটা বড় ইনিংসই তাকে ফর্মে ফেরাতে পারে। ’

কন্ডিশন এবং চ্যালেঞ্জ—এই দুটি শব্দ সংবাদ সম্মেলনে এসেছে বহুবার। তবে ঠিক কী কন্ডিশন আর চ্যালেঞ্জটাই বা কী, এক উত্তরে সবটাই বেরিয়ে এলো মাশরাফির কাছ থেকে, ‘আমাদের একটা ধারণা আছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড মানেই সিমিং কন্ডিশন, এটা পুরোপুরি ভুল। হয়তো টেস্টে কিছুটা থাকতে পারে। (ওয়ানডেতে) ৩০০-৩৫০ রানের উইকেট থাকবে, এই রান তাড়াও করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। একটা ম্যাচ জিততে ঘরের মাঠে আমরা যতটুকু চেষ্টা করে জিততে পারি, ওখানে প্রচেষ্টার মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে দিতে হবে, কারণ ভুল করলে শোধরাবার সুযোগ নেই। ’

টেস্টে পেসারদের হাতে কদাচিৎ বল দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। খাটো রানআপেও বিপিএলে ভালো বল করা মাশরাফিকে আবারও টেস্টে ফেরানো যায় কি না, এ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন মহলে। নিজেই সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয় জিরো পার্সেন্ট। প্রথমত, টেস্টে ফেরার আগে আমার কিছু চার দিনের ম্যাচ খেলা উচিত। নিজের কাছেও বুঝতে হবে কেমন করছি না করছি। এগুলো না হওয়া পর্যন্ত তো বলতে পারি না খেলতে চাই, বললেও অন্যায় হবে। ’

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডে এখনো কোনো রকম ক্রিকেটেই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এমন অনেক অধরা কীর্তিই তো শেষ পর্যন্ত ধরা দিয়েছে মাশরাফির হাতে। নিউজিল্যান্ড কি খালি হাতেই ফেরাবে তাঁকে!

About Monira Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *