Wednesday , January 18 2017
Home / খেলাধুলা / বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যে রেকর্ডগুলো আপনার জেনে রাখা উচিত

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যে রেকর্ডগুলো আপনার জেনে রাখা উচিত

স্পোর্টস ডেস্ক: শুরু করা যাক বাংলাদেশ- নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ক্রিকেট ইতিহাস দিয়ে। সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ জেতা অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৪১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ওয়ানডে ২৬টি, টি-টোয়েন্টি চারটি এবং টেস্ট ১১টি। টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে বাংলাদেশের একটিও জয় নেই। টেস্টে আছে তিনটি ড্র। তবে ওয়ানডেতে মাশরাফিরা জিতেছেন মোট আট ম্যাচ। সর্বশেষ দুই দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই কিউইদের ‘বাংলাওয়াশ’ করার স্মৃতি আছে মাশরাফিদের।

ব্যাটিংয়ে মনে রাখার কীর্তি

টেস্ট: টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ৬৩৮/১০, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০১৩ সালের গল টেস্ট। টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান তামিম ইকবালের ২০৬, পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০১৫ সালের খুলনা টেস্টে। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেটা আবার বাংলাদেশেরই প্রথম টেস্ট ছিলো। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে, তৎকালীণ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি মুশফিকুর রহিমের। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২০০ রান করেন তিনি।

ওয়ানডে: ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ৩২৯/৬, পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০১৫ সালে মিরপুরে। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান তামিম ইকবালের ১৫৪, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন মেহরাব হোসেন অপি। টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার আগের বছর, ১৯৯৯ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০১ রান করেছিলেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি: ক্রিকেটের নতুনতম সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ

সংগ্রহ ১৯০/৫, ২০১২ সালে বেলফাস্টে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ও একমাত্র সেঞ্চুরির ইনিংসটি খেলেছেন তামিম ইকবাল। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধর্মশালায় ওমানের বিপক্ষে ১০৩ রান করেছিলেন তিনি।

বোলিংয়ে যা মনে রাখা দরকার

সেরা বোলিং: টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি তাইজুল ইসলামের। বাঁহাতি এই স্পিনার ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকায় মাত্র ৩৯ রান দিয়ে শিকার করে আট উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে আট উইকেট নেয়ার কীর্তি নেই আর কারো। সাতটি করে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও এনামুল হক জুনিয়র।

ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি মাশরাফি বিন মর্তুজার। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডেতে ছয়টি করে উইকেট আছে মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনেরও।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি ইলিয়াস সানির। ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। মজার ব্যাপার হলো সেটা ছিলো সানির অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে। তার ওই বোলিং অভিষেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনো সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন আর কেবল মোস্তাফিজুর রহমান।

হ্যাটট্রিক আছে যতো: টেস্ট ক্রিকেটে যে হ্যাটট্রিক করা যায়, বাংলাদেশের হয়ে তা প্রথম প্রমাণ করেন অলোক কাপালি। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন লেগ স্পিনার কাপালি। এক দশক পর বাংলাদেশ আবার হ্যাটট্রিক পায় সোহাগ গাজীর অফ স্পিনে। এই হ্যাটট্রিকটি হয় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে। সোহাগ গাজী ভাস্বর হয়ে আছেন ওই সেঞ্চুরি করেও। তিনিই প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিক করতে পেরেছেন।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশে বোলাররা হ্যাটট্রিক করেছেন চারবার। ২০০৬ সালে হারারেতে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন শাহাদাত হোসেন রাজিব। চার বছর পর ২০১০ সালে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার আব্দুর রাজ্জাক। এবারও প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ভেন্যু মিরপুর। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক এটাই বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিক। সোহাগ গাজী যে সিরিজে টেস্ট হ্যাটট্রিক পান, ওই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেন রুবেল হোসেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সর্বশেষ হ্যাটট্রিকটি পায় তাইজুল ইসলামের মাধ্যমে। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ওই ম্যাচেই ওয়ানডে অভিষেক হয় তাইজুলের। ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা এখন পর্যন্ত প্রথম বোলার তিনিই।

দলীয় কিছু রেকর্ড

বাংলাদেশ এখন (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগ পর্যন্ত) পর্যন্ত মোট ৯৫টি টেস্ট খেলে জিতেছে মাত্র আটটি। হারতে হয়েছে ৭২টি। আর বাকি ১৫টি টেস্ট শেষ হয়েছে ড্রয়ে। বাংলাদেশের জয়ের সেঞ্চুরি হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটে। এখন পর্যন্ত ৩১৮টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ১০১টি। হেরেছে ২১৩টি আর ফল আসেনি চারটিতে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ মাঠে নেমেছে ৬২টি বার, জিতেছে ২০ বার, হেরেছে ৪০ বার, বাকি দুটিতে কোনো ফলই আসেনি।

About Monira Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *