ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় বেড়াতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি (সহ-সভাপতি) কামাল উদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের চার সদস্যসহ আহতদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংলগ্ন ফুলার রোডে এ ঘটনা ঘটে।

মানবকণ্ঠ

ভূক্তভোগী প্রাক্তন ঢাবি ছাত্রীর নাম নুজহাত ফারহানা। তিনি মার্কেটিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে চীনে অধ্যায়নরত।প্রাক্তন ছাত্রের নাম রানা নাসের। তিনি থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

সূত্র জানায়, ছুটির দিনে অবসর সময় কাটাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুলার রোডে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় অবসর সময় কাটাতে আসা এসব দর্শনার্থীদের নানাভাবে হেনস্তাসহ টাকা আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে খোজ করে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রানা নাসেরের ভাই বাপ্পি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে বাপ্পির তিন বছরের ইয়ার গ্যাপ রয়েছে। এখন বাপ্পিকে চিনে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায় তার পরিবার। এ জন্য রানা নাসের চীনে পড়ুয়া ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানার দারস্থ হয়। রানা নাসেরকে তার ভাইকেসহ রাতে ফুলার রোডে আসতে বললেন নুজহাত ফারহানা। ফুলার রোডে আসে রানা নাসের তাদের এক জায়গায় বসিয়ে সামান্য দূরে ব্যক্তিগত কাজে যায়। এ সময় দর্শনার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের। এক পর্যায়ে রানা নাসের ভাইকেও মারধর করে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা। রানা নাসের দূর থেকে তার ভাইকে মারধর করতে দেখে দৌড়ে আসলে শিক্ষার্থীরা হলের ভিতরে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ঘটনাস্থলে পড়ে যাওয়া। পরে ওই শিক্ষার্থী তার মোবাইল ফোন নিতে আসলে রানা নাসের তাকে ধরে ফেলে।

এ ঘটনা ভিডিও করে প্রাক্তন ছাত্রী নুজহাত ফারহানা। এমন সময় ভিপি কামাল এসে তাদের হলের ভিতরে নিয়ে যান। হলের ভিতরে নিয়ে রানা নাসেরসহ তার ভাইকে ফের মারধর শুরু করে এবং ছাত্রীর ফোন ছিনতাইয়ের জন্য টানাটানি শুরু করে। এসময় সেখানে প্রক্টরিয়াল টিম আসে এবং তারাও মারধরের শিকার হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম রানা নাসেরসহ তাদের প্রক্টর অফিসের দিকে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানা বলেন, আমি চায়নাতে পড়াশোনা করছি। কিছুদিনের ছুটিতে দেশে এসেছি। রানা নাসের আমার কাছের ছোট ভাই। তার ছোট ভাই শারীরিকভাবে অসুস্থ। সে চায়নাতে স্কলার্শিপ নিতে চায়। এ বিষয়টি নিয়ে রাতে পোলার রোডে আমি ও নাসেরের ছোট ভাই বাপ্পি কথা বলছিলাম। এমন সময় প্রথম বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী এক লাইন ধরে যারা বসে ছিল তাদের হেরেজমেন্ট করতেছিল। তারা আমার কাছে এসে নাসেরের ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না। বাপ্পি কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাকে মারধোর করে। এমন সময় কিছু দূরে থাকা রানা নাসের দৌড়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, রানা নাসের দৌড়ে আসার সাথে সাথে সকল শিক্ষার্থী দৌড়ে হলে চলে যায়। দৌড়ে পালানোর সময় একজন শিক্ষার্থীর মোবাইলফোন ঘটনাস্থলে পড়ে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিতে আসলে রানা নাসের ওকে ধরে। ওই শিক্ষার্থীরা নাসেরের ছোট ভাইকে কেন মেরেছে জানতে চায়। এমন সময় একটু আগে ভিপির কর্মীদের মারধরের শিকার একজন লোক প্রথম বর্ষের ওই শিক্ষার্থীকে মারধর শুরু করে। এই ঘটনাটি আমি ফোনে ভিডিও করতেছিলাম।

এমন সময় হলের ভিপি কামাল এসে আমাদের হলের ভিতরে নিয়ে যায়। সে প্রচণ্ড খারাপ আচরণ করে আমাদের সাথে। এসময় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী আসে। হেনস্তার এক পর্যায়ে কামাল বলে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাতখুন মাপ। তাকে কেন মারা হলো? এসময় নাসির আব্দুল্লাহকে শিক্ষার্থীরা মারধর শুরু করে। তারা আমার ফোন নিয়ে টানাটানি শুরু করে। এসময় প্রক্টরিয়াল টিম আসে এবং আমাদেরকে প্রক্টর অফিসে দিকে নিয়ে যায়।

রানা নাসের বলেন, আমার ছোট ভাই বাপ্পি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার পরিবার তাকে চায়নাতে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায়। তাই আমি আমার ছোট ভাইয়ের মানসিক প্রস্তুতির জন্য আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় আপুর দ্বারস্থ হই এবং আমার ভাই এবং ওই আপুকে পোলার রোডে এক জায়গায় বসিয়ে আমি কাছেই একটি কাজের জন্য যাই।এ মন সময় এসএম হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে আমার ভাইকে মারধর করে।

এক ঘটনায় এসএম হলের ভিপি কামাল উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছে জানিয়ে মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের চারজন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে দেখছি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here