ইশরাত নিশাত

দেশ নাট্যদল গতকাল মঞ্চস্থ করেছে তাদের নতুন প্রযোজনা ‘জলবাসর’। তাই প্রথমবারের মতো নিশাতকে ছাড়াই মঞ্চে উঠছে দলটি। নিজ হাতে এই প্রযোজনাটিও গুছিয়ে তুলেছিলেন ইশরাত নিশাত। ‘জলবাসর’-এর অভিনয়, লাইট, রিহার্সেল কিংবা পোস্টার, সবকিছুই চূড়ান্ত করে গেছেন সদ্য প্রয়াত এই নাট্যজন।
তাঁর এই অনুপস্থিতিতে কেমন ভাবে সামলে নিচ্ছে দল—প্রশ্নটি গতকাল (২৩ জানুয়ারি) করা হয়েছিল ‘জলবাসর’-এর নির্দেশক মাসুম রেজাকে। ‘চেষ্টা করছি, শোকটা কাটিয়ে উঠতে। আমি তো নির্দেশক, তাই অনেক আবেগ গোপন করে রিহার্সেল করছি। কিন্তু টের পাচ্ছি অনেকেই অনুশীলনের মধ্যেই লুকিয়ে কাঁদছেন। যেভাবেই হোক, শোটা মঞ্চে তুলতে চাই। কারণ, এটা নিশাতের নিজ হাতে করা নতুন নাটক’—বলছিলেন এই নাট্যকার।

‘জরবাসর’ এর মহড়া

ইশরাত নিশাত দেশ নাটকের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও দীর্ঘদিন দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। মঞ্চে একাধারে অভিনেত্রী, নির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। অসংখ্য নাটক ও আবৃত্তি প্রযোজনায় মঞ্চ ও আলোক নির্দেশকের কাজ করেছেন তিনি।গত ১৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় গুলশানে বোনের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিশাত মারা যান। মূলত তার মঞ্চজীবনের সর্বশেষ ছোঁয়া থাকছে এই ‘জলবাসর’ নাটকে।
নাটকটির গল্পে উঠে এসেছে মনুষ্য তৈরি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে। আবর্জনা ফেলে সমুদ্র বিনষ্ট করা হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী। নদীকে মেরে ফেলা হচ্ছে। গাছ কেটে শেষ করা হচ্ছে, কাটা হচ্ছে পাহাড়। একটা সময় আসবে, পৃথিবীতে থাকবে একটিমাত্র পাহাড়, একটিমাত্র গাছ। সেটাকেও কাটতে দ্বিধা করবে না মানুষ।
প্রকৃতি ধ্বংস করে আমরা কি নিজেদেরই ধ্বংস করছি? এমন সম্মুখ বাস্তবতার প্রশ্ন নিয়ে হাজির হবে দেশ নাটকের ‘জলবাসর’।
এ নাটকে মোট ১৭টি চরিত্র রয়েছে। এসব চরিত্র রূপায়ণ করবেন—বন্যা মির্জা, নাজনীন হাসান চুমকি, সুষমা সরকার, ফিরোজ আলম, কামাল আহমেদ, তিথিসহ অনেকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here